গোলাম পরওয়ারের ১ কোটি ১৪ লাখ টাকার সম্পদ, বার্ষিক আয় সাড়ে ৪ লাখ

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে। এই নির্বাচনকে সামনে রেখে খুলনা-৫ আসনে ভোটের প্রতিযোগিতায় অংশ নিয়েছেন জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার। এর আগে ২০০১ সালে তিনি একই আসন থেকে চারদলীয় জোটের প্রার্থী হিসেবে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছিলেন।

শুক্রবার (২ জানুয়ারি) খুলনা-৫ আসনের মনোনয়নপত্র যাচাই-বাছাই শেষে রিটার্নিং কর্মকর্তা মিয়া গোলাম পরওয়ারকে বৈধ প্রার্থী হিসেবে ঘোষণা করেন।

রিটার্নিং কর্মকর্তার কাছে দাখিল করা হলফনামা অনুযায়ী, মিয়া গোলাম পরওয়ারের বার্ষিক আয় দেখানো হয়েছে ৪ লাখ ৪৭ হাজার টাকা। তার অস্থাবর ও স্থাবর সম্পদের মোট মূল্য ১ কোটি ১৪ লাখ ৯ হাজার ৭৩৩ টাকা। বর্তমানে তিনি পেশায় একজন ব্যবসায়ী হলেও পূর্বে শিক্ষকতা পেশার সঙ্গে যুক্ত ছিলেন।

হলফনামার তথ্য বিশ্লেষণে দেখা যায়, মিয়া গোলাম পরওয়ারের নামে খুলনা ও ঢাকার বিভিন্ন এলাকায় মোট ৪৮টি মামলা রয়েছে। এর মধ্যে একটি মামলা কোয়াশড হয়েছে এবং বাকি মামলাগুলোতে তিনি খালাস অথবা অব্যাহতি পেয়েছেন।

তার কাছে বর্তমানে নগদ অর্থ রয়েছে ৫ লাখ ৯০ হাজার টাকা এবং ব্যাংকে জমাকৃত অর্থের পরিমাণ ৭ লাখ ২৪ হাজার ৭৩৩ টাকা। এছাড়া টিভি, ফ্রিজ, ল্যাপটপ, রাইস কুকার, ফ্যান ও গিজারসহ বিভিন্ন গৃহস্থালি সামগ্রীর মূল্য দেখানো হয়েছে ৮০ হাজার ৬৫০ টাকা। আসবাবপত্রের মূল্য উল্লেখ করা হয়েছে ১ লাখ ১০ হাজার টাকা।

নির্বাচনী হলফনামায় দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, মিয়া গোলাম পরওয়ারের স্ত্রীর মোট সম্পদের পরিমাণ ২২ লাখ ৫৭ হাজার ২০ টাকা। তার ওপর নির্ভরশীলদের বার্ষিক আয় দেখানো হয়েছে ৩ হাজার ৩৩০ টাকা। স্ত্রীর নগদ অর্থ রয়েছে ২ হাজার ৬৭৫ টাকা এবং ব্যাংকে জমা রয়েছে ৪ হাজার ৩৪৫ টাকা। এছাড়া তার স্ত্রীর মালিকানায় রয়েছে ১৫ ভরি স্বর্ণ, যার মূল্য ৪৫ হাজার টাকা দেখানো হয়েছে।

স্থাবর সম্পদের তালিকায় ২০ লাখ ৭২ হাজার টাকা মূল্যের অকৃষি জমি এবং ২ লাখ টাকা মূল্যের ভবনের তথ্য উল্লেখ করা হয়েছে, যা অর্জনকালীন মূল্য হিসেবে দেখানো হয়েছে। তবে এসব সম্পদের বর্তমান মূল্য প্রায় ১ কোটি টাকা বলে হলফনামায় উল্লেখ রয়েছে।

সর্বশেষ অর্থবছরে মিয়া গোলাম পরওয়ার ৫ হাজার ৬২৫ টাকা আয়কর প্রদান করেছেন বলেও তার হলফনামায় উল্লেখ করা হয়েছে।

নির্বাচন-পূর্ব অঙ্গীকার হিসেবে তিনি হলফনামায় জানিয়েছেন, নির্বাচিত হলে এলাকায় ৯০ শতাংশ সন্ত্রাস দমন, ফুলতলা উপজেলায় ৭৫ শতাংশ ভূমি উন্নয়ন কর হ্রাস, ৮০ শতাংশ রাস্তাঘাট, হাটবাজার, ধর্মীয় ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের উন্নয়ন এবং ৩৫ শতাংশ জলাবদ্ধতা নিরসন, নদীভাঙন রোধ ও খাল খননের উদ্যোগ নেওয়া হবে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *