
স্টাফ রিপোর্টার:
২০২৬ শিক্ষাবর্ষে দেশের প্রাথমিক ও মাধ্যমিক পর্যায়ের শিক্ষার্থীদের জন্য ৩০ কোটিরও বেশি বিনামূল্যে পাঠ্যবই বিতরণ করবে সরকার। এসব পাঠ্যবই ছাপানোর কাজ করছে শতাধিক বেসরকারি মুদ্রণ প্রতিষ্ঠান (প্রেস)। তবে এর মধ্যে কয়েকটি প্রেসের বিরুদ্ধে নিম্নমানের কাগজ ব্যবহারসহ নানা অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে।
সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, কর্ণফুলী আর্ট প্রেস ও অগ্রণী প্রিন্টিং প্রেস নামের দুটি প্রতিষ্ঠান এ বছরও বিপুল পরিমাণ পাঠ্যবই ছাপানোর কাজ পেয়েছে। বই ছাপাতে তারা মোট সাড়ে ৮ হাজার টন কাগজ ব্যবহার করছে। এর মধ্যে প্রায় সাড়ে ৫ হাজার টন কাগজ ইতোমধ্যে ব্যবহার করা হয়েছে।
নিম্নমানের কাগজ ব্যবহারের অভিযোগ
সূত্রের দাবি, পাঠ্যবই ছাপাতে প্রেস দুটি প্রায় ৬০ থেকে ৭০ শতাংশ (প্রায় ৩৮৫০ টন) নিম্নমানের রিসাইকেল কাগজ ব্যবহার করেছে। বাজারে ভালো মানের এক টন কাগজের দাম যেখানে ১ লাখ ১৫ থেকে ১ লাখ ২০ হাজার টাকা, সেখানে ব্যবহৃত রিসাইকেল কাগজের দাম ৬৫ থেকে ৭০ হাজার টাকা টনপ্রতি।
ফলে প্রতিটন কাগজে প্রায় ৫০ হাজার টাকা পার্থক্য থাকায় এই দুই প্রতিষ্ঠান প্রায় ১৯ কোটি টাকার বেশি অতিরিক্ত মুনাফা করছে বলে অভিযোগ উঠেছে।
এনসিটিবির আপত্তি ও ব্যবস্থা
এ বিষয়ে জাতীয় শিক্ষাক্রম ও পাঠ্যপুস্তক বোর্ডের (এনসিটিবি) সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, নিম্নমানের কাগজে বই ছাপানোর কারণে ৫০ লাখ ফর্মার বাইন্ডিং, কাটিং ও সরবরাহ সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে। এমনকি নিম্নমানের কাগজে ছাপা বই বাতিল ও ধ্বংসের নির্দেশও দেওয়া হয়েছে।
তদারক সংস্থার রিপোর্ট
প্রতিবছর পাঠ্যবই ছাপাতে সরকারের ব্যয় দাঁড়ায় প্রায় ১,৫০০ থেকে ২,০০০ কোটি টাকা। এ কাজের তদারকি করছে শিক্ষা মন্ত্রণালয়, এনসিটিবি এবং থার্ড পার্টি সংস্থা বিডি কন্ট্রোল এজেন্সি।
তদন্তে গিয়ে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা অভিযোগে উল্লেখিত চারটি প্রেসের বিরুদ্ধে অনিয়ম পেয়েছেন—
কর্ণফুলী আর্ট প্রেস
অগ্রণী প্রিন্টিং প্রেস
আনোয়ার প্রিন্টার্স অ্যান্ড পাবলিকেশন (কেরানীগঞ্জ)
কচুয়া প্রেস অ্যান্ড পাবলিকেশন
তারা দাবি করেন, এগুলোর মালিকানা একই পরিবারের সদস্যদের হাতে।
তবে অভিযোগ পাওয়ার পরও উচ্চপর্যায়ে শক্ত কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি—এমন অভিযোগও তুলেছেন সংশ্লিষ্ট কয়েকজন কর্মকর্তা। তাঁরা নিরাপত্তা ও চাকরি ঝুঁকির কারণ দেখিয়ে প্রকাশ্যে কথা বলতে অনীহা প্রকাশ করেছেন।
সরকারি অবস্থান কী?
এ বিষয়ে শিক্ষা মন্ত্রণালয় ও এনসিটিবির আনুষ্ঠানিক বক্তব্য জানা যায়নি। তবে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন, বইয়ের মান নিশ্চিত না করে কোনো বই শিক্ষার্থীদের হাতে পৌঁছাবে না।