ইরানে শতাধিক নিরাপত্তা বাহিনী নিহতের দাবি

যুক্তরাষ্ট্র ইসলামি প্রজাতন্ত্র ইরানে সামরিক হামলা চালালে ইসরায়েল ও মধ্যপ্রাচ্যে অবস্থিত মার্কিন ঘাঁটিগুলোতে পাল্টা হামলা চালানো হবে—এমন কঠোর হুঁশিয়ারি দিয়েছে ইরান। দেশটির পার্লামেন্ট স্পিকার মোহাম্মদ বাকের কালিবাফ এই সতর্কবার্তা দেন।
আল জাজিরার প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, রোববার রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনের বরাতে জানানো হয়, ইসফাহান প্রদেশে পুলিশ ও নিরাপত্তা বাহিনীর অন্তত ৩০ সদস্য নিহত হয়েছেন। একই সঙ্গে আইন প্রয়োগকারী বাহিনীর বিশেষ ইউনিটের কমান্ডার জানান, গত ৮ ও ৯ জানুয়ারি বিভিন্ন শহরে বিক্ষোভ ও দাঙ্গা দমনের অভিযানে আরও আট সদস্য প্রাণ হারান।
আধা-সরকারি বার্তা সংস্থা তাসনিমের তথ্য অনুযায়ী, দেশজুড়ে চলমান বিক্ষোভে এ পর্যন্ত নিরাপত্তা বাহিনীর অন্তত ১০৯ জন সদস্য নিহত হয়েছেন। অন্যদিকে ইরানের রেড ক্রিসেন্ট জানিয়েছে, গোলেস্তান প্রদেশের রাজধানী গোরগানে তাদের একটি ত্রাণ ভবনে হামলার ঘটনায় সংস্থাটির এক কর্মী নিহত হয়েছেন।
আল জাজিরা জানায়, এই পরিসংখ্যান সামনে এসেছে এমন এক সময়ে, যখন সাম্প্রতিক বছরগুলোর মধ্যে সবচেয়ে বড় বিক্ষোভ দমনে তৎপরতা জোরদার করেছে ইরানি কর্তৃপক্ষ। জীবনযাত্রার ব্যয় বৃদ্ধি ও লাগামছাড়া মূল্যস্ফীতির প্রতিবাদে দেশটির বিভিন্ন অঞ্চলে সাধারণ মানুষ রাস্তায় নেমে এসেছে।
ইরানের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় দাবি করেছে, এই ‘দাঙ্গা’ ধীরে ধীরে নিয়ন্ত্রণে আসছে। তবে দেশটির অ্যাটর্নি জেনারেল সতর্ক করে বলেছেন, সহিংসতায় জড়িতদের সর্বোচ্চ শাস্তি হিসেবে মৃত্যুদণ্ডও দেওয়া হতে পারে।
ট্রাম্পের হুমকি ও ইরানের প্রতিক্রিয়া
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সামরিক হামলার হুমকির পর রোববার সংসদে বক্তব্য দেন পার্লামেন্ট স্পিকার কালিবাফ। সাবেক বিপ্লবী গার্ড কমান্ডার কালিবাফ বলেন, ‘স্পষ্ট করে বলছি—ইরানে হামলা হলে দখলকৃত ভূখণ্ড (ইসরায়েল) এবং যুক্তরাষ্ট্রের সব ঘাঁটি ও জাহাজ আমাদের বৈধ লক্ষ্য হবে।’
তেহরান থেকে আল জাজিরার প্রতিবেদক তৌহিদ আসাদি বলেন, কালিবাফের বক্তব্য কথার দিক থেকে হলেও চলমান উত্তেজনায় নতুন মাত্রা যোগ করেছে। সংসদে বক্তব্য চলাকালে কয়েকজন আইনপ্রণেতাকে ডায়াসের দিকে দৌড়ে গিয়ে ‘আমেরিকার পতন হোক’ স্লোগান দিতে দেখা গেছে বলেও জানান তিনি।
আসাদির ভাষ্য অনুযায়ী, ইরানি কর্তৃপক্ষ বিক্ষোভকারীদের ‘দাঙ্গাবাজ’ হিসেবে চিহ্নিত করে একটি বিভাজনরেখা তৈরি করতে চাইছে—যাদের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনি ‘নাশকতাকারী’ বলে উল্লেখ করেছেন। তবে একই সঙ্গে সরকার জনগণের অর্থনৈতিক সংকটের বিষয়টি বোঝার চেষ্টা করছে বলেও দাবি করা হচ্ছে।
প্রতিবেদক জানান, দিনের শুরুতে দেওয়া বক্তব্যে কালিবাফ শান্তিপূর্ণ বিক্ষোভে অংশ নেওয়ার জনগণের অধিকার স্বীকার করেছেন।
যুক্তরাষ্ট্রের অবস্থান
শনিবার ট্রাম্প বলেন, ইরানে বিক্ষোভকারীদের বিরুদ্ধে দমন-পীড়ন আরও বাড়লে যুক্তরাষ্ট্র ‘সহায়তা দিতে প্রস্তুত’। ট্রুথ সোশ্যালে দেওয়া এক পোস্টে তিনি লেখেন, ‘ইরান এখন স্বাধীনতার দিকে তাকিয়ে আছে—হয়তো আগের যেকোনো সময়ের চেয়ে বেশি। যুক্তরাষ্ট্র সহায়তা দিতে প্রস্তুত।’ তবে কী ধরনের সহায়তা দেওয়া হবে, সে বিষয়ে তিনি বিস্তারিত জানাননি।
এর একদিন আগে ট্রাম্প বলেন, ইরান ‘বড় বিপদে’ রয়েছে এবং প্রয়োজনে আবারও হামলার নির্দেশ দেওয়া হতে পারে। তিনি বলেন, ‘এর মানে স্থলবাহিনী পাঠানো নয়, কিন্তু এর মানে হলো খুব কঠোরভাবে আঘাত করা—যাতে সবচেয়ে বেশি ব্যথা পায়।’
এদিকে নেটব্লকস জানিয়েছে, ইরানজুড়ে ইন্টারনেট ব্ল্যাকআউট এখনো বহাল রয়েছে এবং এর স্থায়িত্ব ৬০ ঘণ্টা ছাড়িয়েছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *